পরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৬:৪৯ পিএম, জুন ৯, ২০২২
  • শেয়ার করুন

সরকার পরিকল্পিত নগরায়ন ও আবাসন, পার্ক ও জলাশয় ব্যবস্থাপনা, যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসন এবং আশ্রয়ণের অধিকার নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে তিনি এ কথা জানান।

মুস্তফা কামাল বলেন, রাজউকের আওতায় ২০১৬-২০৩৫ মেয়াদি ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) প্রণয়নের কাজ বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের আওতায় ভূমিকম্পজনিত কারণে ঢাকা শহরের ভবনসমূহের ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসমেন্টের কাজ চলমান রয়েছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় ‘প্রিপারেশন অব চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টার প্ল্যান (২০২০-২০৪১)’ শীর্ষক একটি সমীক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ২০ বছর মেয়াদি ও চার স্তরবিশিষ্ট একটি কার্যকরী মহাপরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। এছাড়া, পরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষ্যে ‘নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা আইন’ প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় কুড়িল-পূর্বাচল লিংক রোডের উভয়পার্শ্বে ১০০ ফুট খাল খনন ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৪ লেন বিশিষ্ট ১২.৩ কি.মি. রাস্তাসহ ৫টি এ্যাট-গ্রেড ইন্টারসেকশন, ১৩টি আর্চ ব্রিজ ও ৪টি আন্ডারপাস নির্মাণ এবং ৬টি ব্রিজ প্রশস্তকরণ কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি, রাজউকের আওতায় ঢাকার নুতন বাজার এলাকা থেকে মাদানী অ্যাভিনিউ হয়ে বালু নদী পর্যন্ত ৪টি ব্রিজসহ প্রায় ৬.১৮ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ৩৫টি খাল পরিষ্কার ও পুনঃখনন কাজ চলমান রয়েছে। চট্টগ্রামের লালখানবাজার থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত ১৬.৫০ কি.মি. ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া, চট্টগ্রাম শহরের যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ১৫.২০ কি.মি. রিং রোড নির্মাণ প্রকল্পের কাজ সমাপ্তির পথে রয়েছে।

টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইটের বিকল্প হিসেবে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ব্লক তৈরি উৎসাহিত করা হচ্ছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে ইটের ব্যবহার শূন্যের কোঠায় হ্রাসের সরকারি নীতি বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করছি। উন্নত বিশ্বের নির্মাণ প্রকৌশলের সাথে তাল মিলিয়ে অতি দ্রুত ভবন নির্মাণ প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুউচ্চ ভবন নির্মাণ অগ্রাধিকার দেওয়া, স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত নির্মাণসামগ্রীর সর্বোত্তম ব্যবহারপূর্বক দেশীয় প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবল দ্বারা নির্মাণ শিল্পকে যুগোপযোগী ও টেকসই উন্নয়নের ধারায় পরিচালিত করা, পুরনো সরকারি ভবনসমূহকে প্রয়োজন ও গুরুত্ব অনুযায়ী ভূমিকম্প সহনীয় ব্যবস্থা বা রেট্রোফিটিং এর আওতায় আনা, জীবাশ্ম জ্বালানির ন্যূনতম ব্যবহার ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধিসহ সকল সরকারি ভবন পরিবেশ-বান্ধব, জ্বালানি-সাশ্রয়ী ও সবুজ প্রযুক্তিসম্পন্ন করে গড়ে তোলার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।



সর্বশেষ খবর