নৌকায় ভোট দিয়ে ধানের শীষকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করুনঃ কামাল

প্রকাশিত: ১০:০০ পিএম, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০
  • শেয়ার করুন

আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পাবনা-৪ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সাবেক ভূমি মন্ত্রী ও পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন শামসুর রহমান শরীফ ডিলু। তার মৃত্যুতে ওই আসনটি শূন্য হয়। আর ওই নির্বাচন পরিচালনার জন্য আওয়ামী লীগ থেকে সমন্বয়কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেনকে।

এই উপনির্বাচনে নৌকা প্রার্থীর পক্ষে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঈশ্বরদীর পুরাতন বাস টার্মিনালে (মাহাবুব আহমদ খান স্মৃতি মঞ্চ) এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

ওই পথসভায় এসএম কামাল হোসেন বলেন, ‘২৬ তারিখে ব্যালটের মাধ্যমে হাবিব সাহেব আর হাবিব সাহেবের নেতা দুর্নীতিবাজদের বরপুত্র তারেক জিয়াকে শিক্ষা দিতে চাই। ধানের শীষ মানুষের কাছে যন্ত্রণার বিষ। তাই আপনারা নৌকায় ভোট দিয়ে ধানের শীষকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করুন।’

এসএম কামাল বলেন, ‘নৌকায় ভোট দিয়ে বাঙালি কখনো বিমুখ হয়নি। কারণ নৌকা স্বাধীনতার প্রতীক, নৌকা উন্নয়নের প্রতীক, নৌকা গণতন্ত্রের প্রতীক। নৌকা সমৃদ্ধির প্রতীক। নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই আজকে জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলার প্রধানমন্ত্রী, আর বাংলার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, বিধবারা ভাতা পান, বয়স্করা ভাতা পান। কৃষকরা সার পান, আমার-আপনার সন্তানরা বছরের প্রথম দিনে বিনামূল্যে নতুন বই পায়।’

তিনি বলেন, ‘নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই জননেত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন, মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। ধানের শীষ হচ্ছে মানুষের জন্য বিষ। ধানের শীষে ভোট নেয়ার পর এই উত্তরজনপদে বেগম জিয়ার সময় বাংলা ভাই অস্ত্র উঁচিয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছিল। উল্লাপাড়ার পূর্ণিমাকে ধর্ষণ করেছিল বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য যুবদলের সন্তানেরা, আর জামায়াত-শিবিরের পার্টনাররা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলতে চাই, ধানের শীষ হচ্ছে সন্ত্রাসের প্রতীক। ধানের শীষ হচ্ছে জঙ্গিবাদের প্রতীক। ধানের শীষ হচ্ছে গণতন্ত্রবিরোধীদের প্রতীক, মুক্তিযুদ্ধ চেতনাবিরোধীদের প্রতীক। ধানের শীষ হচ্ছে দুর্নীতিবাজদের প্রতীক, ধানের শীষ হচ্ছে জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকদের প্রতীক। ধানের শীষ হচ্ছে যারা একাত্তর সালে আমার মা-বোনকে ধর্ষণ করেছিল, ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছিল, সেই মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিরোধী শক্তির প্রতীক।’

বিএনপির প্রার্থীর সমালোচনা করে এসএম কামাল বলেন, ‘হাবিব সাহেব যে হাবিব হয়েছে, এটা শেখ হাসিনা করেছেন। হাবিব সাহেব অকৃতজ্ঞ। ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই গ্রুপের কোন্দলে তাদের নেতাকর্মীরা আহত হয়েছেন। কিন্তু হাবিব সাহেব বলেছেন, যুবলীগ হামলা করেছে। হাবিব সাহেব যুবলীগ যদি হামলা করত, ঘর থেকে কী তাহলে বের হতে পারতেন? ছাত্রলীগ যদি হামলা করত কোথাও পথসভা করতে পারতেন?’

ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আগামী ২৬ তারিখ সকালে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আপনারা নৌকায় ভোট দেবেন। আপনাদের কথা দিচ্ছি- ঈশ্বরদী হবে সন্ত্রাসমুক্ত, ঈশ্বরদী হবে মাদকমুক্ত, ঈশ্বরদী হবে চাঁদাবাজমুক্ত।’

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা শপথ নেই, আগামী ২৬ তারিখ জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আমরা পাবনা-৪ আসন উপহার দেই। এইখানে পৌরসভার সব নেতারা আছেন, আমরা ব্যালটে হাবিব সাহেব আর হাবিব সাহেবের নেতা দুর্নীতিবাজদের বরপুত্র তারেক জিয়াকে শিক্ষা দেব।’

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান। ঈশ্বরদী পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর সভাপতিত্বে পথসভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অঞ্জন চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে নায়েব আলী বিশ্বাস, মকলেছুর রহমান পিন্টুসহ অন্যান্যরা। পথসভা পরিচালনা করেন ঈশ্বরদী পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহাক মালিথা।

উল্লেখ্য, পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা। দুই দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সরব উপস্থিতিতে নির্বাচনী প্রচার বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সকল মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নৌকার প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। এ উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাস এবং বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব। এছাড়া নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী রেজাউল করিম খোকন।