৫ দিনের মধ্যে ওয়ার্ড নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের নির্দেশ নানকের

প্রকাশিত: ১:০৯ পিএম, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২০
  • শেয়ার করুন

আগামী ৫ দিনের মধ্যে ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনী এলাকার প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ও ঢাকা-৫ উপনির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনার সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক।

তিনি বলেছেন, বিএনপি কিন্তু এবারের নির্বাচনকে ঘিরে গাঁটছড়া বেঁধে নেমেছে। শুধু এই জায়গা নয়, তারা প্রত্যেকটি উপনির্বাচনে অংশ নেবে। নির্বাচনকে তারা একটা আন্দোলনের হাতিয়ার হিসেবে এবং তাদের রাজনীতির একটা কূটকৌশল হিসেবে গ্রহণ করেছে। আমি নৌকা পেয়েছি, সেই কারণে জিতে যাব, এই ধ্যান-ধারণাটা মাথার ভেতর থেকে নামিয়ে ফেলতে হবে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা-৫ আসনে নৌকার প্রার্থী কাজী মনিরুল ইসলামের নির্বাচনী কার্যালয় মিরহাজিরবাগ কাজী টাওয়ারে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফীর সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম।

আসন্ন ৩টি উপ-নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচন পরিচালনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের ৫ জন নেতাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ কারণে রোববার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ঢাকা-৫ আসনের নৌকার প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মোর্শেদ কামালসহ যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতারা মতবিনিময় করেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতির পক্ষে নির্বাচনী দায়িত্ব দেয়ার কথা জানিয়ে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, মূলত নির্বাচনী কাজটি আমরা আজকে থেকে শুরু করলাম। এই নির্বাচনের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, নির্বাচনী আবহাওয়া, এই নির্বাচন কোন পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, আমরা সবাই তা জানি।

করোনাভাইরাসের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষ সহসা ঘর থেকে বের হতে চায় না। এমন একটি পরিস্থিতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অনেক ভোটার বাড়িতে ঢোকার অনুমতি দিচ্ছে না। তাহলে আমাদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার কৌশল কী হবে? নির্বাচনটি আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবারের নির্বাচন কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে। বিএনপি কিন্তু এবার নির্বাচনকে ঘিরে গাঁটছড়া বেঁধে নেমেছে। শুধু এই জায়গায় নয়, তারা প্রত্যেকটি উপনির্বাচনে অংশ নেবে। সব মিলিয়ে নির্বাচনকে কিন্তু তারা একটা আন্দোলনের হাতিয়ার হিসেবে, রাজনীতির একটা কূটকৌশল হিসেবে গ্রহণ করেছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কিন্তু খুব স্পর্শকাতর হয়ে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মস্তিষ্কে যদি থেকে থাকে, নির্বাচনে আমি প্রার্থী হয়েছি, সে কারণে আমি জিতে যাব। আমি নৌকা পেয়েছি, সেই কারণে জিতে যাব। এই ধ্যান-ধারণাটা মাথার ভেতর থেকে নামিয়ে ফেলার অনুরোধ করছি।

নির্বাচন পরিচালনার বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে নানক বলেন, ৫ দিনের মধ্যে ওয়ার্ড নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করতে হবে। যেখানে আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ ওয়ার্ড কমিটি নাই, সেখানে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করতে হবে এবং এই ওয়ার্ড পরিচালনা কমিটি যখন গঠন করবেন, তাদের ভেতর থেকে ভাগ ভাগ করে দায়িত্ব দিয়ে একটি কেন্দ্রের দায়িত্ব দিতে হবে। বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। তবে কমিটি করার সময় আমরা যেন আমাদের শুধু ভাতিজা, ভাগ্নে, শ্যালক, শ্যালকের বাড়ির কামলাকে সদস্য না বানাই।

কমিটিগুলো গঠন করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ৫ দিনের মধ্যে ওয়ার্ড অফিসও আমরা দেখতে চাই। আমরা ৫ দিন পরে ফোন দেয়া শুরু করব। আমাদের কাছে সকলের ফোন নাম্বার আছে। কমিটি হয়েছে, নাকি হয় নাই, অফিস হয়েছে, নাকি হয় নাই। যদি বলেন হয়েছে, তাহলে বলব- মাগরিবের নামাজ আপনার এলাকার মসজিদের মধ্যে আদায় করব।

দুই থানায় দুইটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেন নানক। সে কমিটি দুইটা আগামীকালের মধ্যে গঠন করতে হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি যারা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করবে, তাদেরকে আগামী কমিটিতে রাখা যাবে না। কাউন্সিলরদের ওয়ার্ড কমিটির সঙ্গে যুক্ত করতে হবে এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সমস্ত নির্বাচনী কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করতে হবে। এছাড়া সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোকে আলাদা করে কমিটি গঠন করে নির্বাচন পরিচালনার কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার গাইডলাইন দেন। সব জায়গায় ঘোরাঘুরি করার দরকার নাই। নিজ নিজ এলাকায় সম্পৃক্ত থেকে সুপারভিশন করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ৫ দিনের মধ্যে ওয়ার্ড নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করবেন, সেই ওয়ার্ড কমিটি গঠন করার সময় আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে, চিহ্নিত করে রাখতে হবে কে ভোটারদের কাছে গিয়েছে, কে কী কাজ করেছে? সেই ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে রাখতে হবে। তাদেরকে পরবর্তীতে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কমিটিতে স্থান করে দিতে হবে।

নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় নারী নেতাকর্মীদের কাজে লাগাতে দুইটি থানার সাধারণ কর্মীসভা করার নির্দেশনাও দেন নানক।

ঢাকা-৫ আসনে দলীয় প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনায় যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ মুন্নাকে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করেন তিনি।

মনোনয়ন প্রাপ্ত হয়ে প্রয়াত হাবিবুর রহমান মোল্লার বাড়িতে গিয়ে দেখা করার জন্য নৌকার প্রার্থী কাজী মনিরুল ইসলামকে ধন্যবাদও জানান তিনি।

দলীয় নেতাদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের কিন্তু একটা অভ্যাস আছে, আর তা হলো যখন আমরা যে কাজে নামি, সেইটা নিয়েই থাকি। তাই আপনারা সবাই ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কাজ করবেন। যদি নির্বাচনী বিধিনিষেধ না থাকে তাহলে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে নির্বাচনী সভা করতে হবে। আগামী নির্বাচনে আমরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করব। কারণ এই ডেমরা-যাত্রাবাড়ীর মানুষকে যা দেয়া হয়েছে, মানুষ নৌকার সঙ্গে, শেখ হাসিনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না।