বাইডেনের আমলের সব অ্যাটর্নিকে বরখাস্তের নির্দেশ দিলেন ট্রাম্প

প্রকাশিত: ৫:৪৩ পিএম, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৫
  • শেয়ার করুন

এবার সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে নিয়োগ পাওয়া সব অ্যাটর্নিকে বরখাস্ত করতে বিচার বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এই নির্দেশ দেন তিনি। এদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘বিচার বিভাগকে এতটাই রাজনীতিকরণ হয়েছে, যা আগে কখনও হয়নি। এজন্য আমি বাইডেন যুগে নিয়োগ পাওয়াদের মধ্যে যেসব অ্যাটর্নি এখনও চাকরিতে আছেন, তাদের সবাইকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অবিলম্বে ‘ঘর পরিষ্কার’ করতে হবে, এবং আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হবে।’ আরও বলেন, ‘আমেরিকার চলমান স্বর্ণযুগে অবশ্যই একটি স্বচ্ছ বিচার ব্যবস্থা থাকতে হবে, যা আজ শুরু হলো।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় সরকারের কৌঁসুলি বা আইনজীবীরা অ্যাটর্নি নামে পরিচিত। দেশটির ৯৪টি কেন্দ্রীয় ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে ৯৩ জন অ্যাটর্নি রয়েছেন। একেকজন অ্যাটর্নি একটি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের দায়িত্বে থাকলেও দুটি ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট আছে, যেগুলো একজন অ্যাটর্নিই সামলান। অ্যাটর্নিরা প্রতিটি ডিস্ট্রিক্টে কেন্দ্রীয় শীর্ষ আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হন।

গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউস বেশ কয়েকজন অ্যাটর্নিকে চাকরিচ্যুতির নোটিশ পাঠায়। সাধারণত প্রত্যেক নতুন প্রশাসনই আগের সরকারের নিয়োগ অ্যাটর্নিকে চিঠি জারি করার পরিবর্তে পদত্যাগের অনুরোধ করে। অনেকেই নিজ থেকেই পদত্যাগ করেন।

গত বছরের নভেম্বরে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর বাইডেনের আমলে নিয়োগ দেয়া কয়েকজন অ্যাটর্নি পদত্যাগ করেন। এরপর ক্ষমতা গ্রহণের পর ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলা নিয়ে কাজ করা বেশ কয়েকজন আইনজীবীকে বরখাস্ত করেন।

বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সাবেক বিশেষ পরামর্শক (স্পেশাল কাউন্সেল) জ্যাক স্মিথের কয়েকজন কর্মী রয়েছেন। যারা জ্যাক স্মিথের নেতৃত্বে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে হওয়া দুটি ফৌজদারি মামলার তদন্তে কাজ করেছিলেন। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর জ্যাক স্মিথ পদত্যাগ করেন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ট্রাম্প অভিযোগ করেন, বাইডেন প্রশাসন তাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিতে বিচার বিভাগকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। সেই সঙ্গে তিনি বিচার বিভাগকে ‘পুনরুদ্ধারে’র প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণাও চালান।