সর্বশেষ সংবাদ

বঙ্গবন্ধু ছিলেন আন্তর্জাতিক বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নেতা: সংসদ

প্রকাশিত: ১০:২৫ এএম, নভেম্বর ১১, ২০২০
  • শেয়ার করুন

‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় নেতা নয়, ছিলেন আন্তর্জাতিক বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নেতা। জাতির পিতা সপরিবারে রক্ত দিয়ে বাঙালি জাতির রক্তের ঋণ শোধ করে গেছেন। তার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই তার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানানো হবে। ‘

মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্মময় ও বর্ণাঢ্য জীবনের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা এসব কথা বলেন।

প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে ওই আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক নৌ-পরিবহণ মন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, নৌ-পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, হুইপ আতিউর রহমান আতিক, সরকারি দলের আরমা দত্ত ও তাহজীব আলম সিদ্দিকী এবং বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মো. ফখরুল ইমাম।

মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হত্যার জন্য ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। কারণ হত্যাকারীরা জানতো বঙ্গবন্ধুর রক্ত যদি ছিটে ফোটাও বেঁচে থাকে তাহলে বাঙালি জাতি আবারো তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হবে। বাস্তবে সেটাই হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতি আবারো ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তার নেতৃত্বেই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে ব্যর্থ করতে ও স্বাধীনতার স্বপ্ন যেন বাস্তবায়িত না হয় সেজন্যই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। এরপর বঙ্গবন্ধুর খুনি, একাত্তরের গণহত্যাকারী, ধর্ষকদের রাজনীতিতে পুনর্বাসন করা হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে হত্যা করতে ষড়যন্ত্রকারীরা ব্যর্থ হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধীকারের হাত ধরে জাতির পিতার আদর্শ সারাবিশ্বে পতপত করে উড়ছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছে।

ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার পর ষড়যন্ত্রকারীরা অনেক ষড়যন্ত্র করেছিল। খুনী মোশতাক, কুখ্যাত জিয়ারা ১৫ আগস্ট ঘটিয়েছিল। জিয়াউর রহমান আসলে ছিল মূল ষড়যন্ত্রকারী। বঙ্গবন্ধুর মতো নেতাকে আমরা রক্ষা করতে পারিনি। এই কলঙ্ক থেকে আমরা কোনদিন মুক্ত হতে পারবো না। বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে কোন ইতিহাস রচিত হতে পারে না।

সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, পৃথিবীতে অনেক নেতা আছে, অনেক মানুষ আছে যাদের মৃত্যু হয় না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মৃত্যুবরণ করেননি, তিনি আছেন এবং তিনি চিরদিন থাকবেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন রক্ত দিয়ে জীবন দিয়ে তোমরা আমাকে কারাগার থেকে মুক্ত করেছ, যদি কোনদিন পারি নিজের রক্ত দিয়ে সেই রক্তের ঋণ শোধ করে দিয়ে যাব।

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বঙ্গবন্ধু-বাংলাদেশ-স্বাধীনতা এক ও অভিন্ন। পাকিস্তান হানাদাররা স্বাধীনতা ঠেকাতে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে, সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতা ঠেকাতে পারেনি।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন, বঙ্গবন্ধু দীর্ঘ ২৩ বছরের সংগ্রামে ২২ বার গ্রেফতার হয়েছেন। দীর্ঘ ১৪টি বছর কারাগারে কাটিয়েছেন। বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন, কখনো মাথানত করেননি। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে, কিন্তু নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের শাস্তি দিতে দ্রুত একটি তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মূল ষড়যন্ত্রকারী খুনী জিয়াউর রহমান। মীর জাফরের মতো বেঈমান জিয়া-মোশতাকদের কারণে আমাদের বঙ্গবন্ধুকে হারাতে হয়েছে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাতীয় পার্টির মো. ফখরুল ইমাম বলেন, বঙ্গবন্ধুর কখনো মৃত্যু হয় না। বঙ্গবন্ধু কখনো হারিয়ে যায় না। তাকে হত্যার মধ্য দিয়ে খুনীরা তার আদর্শকে বিলুপ্ত করার ব্যর্থ চেষ্টা করেছে। বঙ্গবন্ধু’র আদর্শ আজও আমাদের পথ দেখাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা আমাদের কান্ডারি। তার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তার নেতৃত্বে দ্রুতই আমরা উন্নত দেশে পরিণত হবো।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী (মুজিববর্ষ-২০২০) উপলক্ষে ৮ নভেম্বর জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন শুরু হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে এই অধিবেশনে ৯ নভেম্বর জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধির ১৪৭ বিধির আওতায় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে সাধারণ আলোচনা শুরু হয়। ১২ নভেম্বর এই আলোচনা সমাপ্ত হবে।