চসিকসহ সব ধরনের নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা

প্রকাশিত: ১১:৩৬ এএম, মার্চ ২২, ২০২০
  • শেয়ার করুন

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনসহ জাতীয় ও স্থানীয় সরকারের সব ধরনের নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঢাকা-১০সহ তিনটি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ইসি এমন সিদ্ধান্ত নিল।

শনিবার নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত কমিশনের ৬২তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কমিশন সভার পর নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর সব ধরনের নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেন।

ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, করোনাভাইরাস সারা বিশ্বে ক্রমান্বয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। যদিও বাংলাদেশে সীমিত পর্যায়ে ছড়িয়েছে, মহামারী আকারে ছড়ায়নি। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। এ কারণে ২৯ মার্চ অনুষ্ঠেয় চসিক, বগুড়া-১ ও যশোর-৬সহ সব নির্বাচন পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি আমাদের পর্যবেক্ষণে থাকবে। স্বাস্থ্য বিভাগ যখন করোনা ঝুঁকিমুক্ত বলবে, তখন কমিশন নতুন তারিখ ঘোষণা করবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কারও চাপে নির্বাচন স্থগিত করা হয়নি। যখন প্রয়োজন মনে হয়েছে, তখন ভোট স্থগিত করা হয়েছে।

২৯ মার্চের আরও যেসব নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- ৯টি পৌরসভার বিভিন্ন পদের উপনির্বাচন, পাঁচ জেলায় জেলা পরিষদের ৫টি পদের উপনির্বাচন এবং ৯৩টি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন পদের নির্বাচন। তবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের নাম গেজেটে প্রকাশ করা হবে।

করোনার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যেও শনিবার তিনটি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, নির্বাচন এমন পর্যায়ে ছিল যে শুধু ভোট গ্রহণটাই বাকি ছিল। এ কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করেও ভোট পেছানো হয়নি। সব কেন্দ্রে পর্যাপ্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও টিসু ছিল।

স্থগিত নির্বাচনগুলো কোন পর্যায় থেকে শুরু হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, যে পর্যায় থেকে স্থগিত হয়েছে, সেখান থেকেই শুরু হবে। এসব নির্বাচনে নতুন কেউ প্রার্থী হতে পারবেন না। নির্বাচন স্থগিত করায় আইনি জটিলতা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মো. আলমগীর বলেন, সংবিধানে সংসদ নির্বাচন মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিন আগে করার বিধান আছে। তবে দৈবদুর্বিপাক হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার ক্ষমতা সিইসিকে দেয়া আছে। সবমিলে ১৮০ দিন বা ৬ মাস সময় পাব। আশা করি, এতদিন করোনার আতঙ্ক থাকবে না। যথাসময়ে নির্বাচনের পরবর্তী তারিখ ঘোষণা করা যাবে।