আসন্ন সংসদ অধিবেশন শুরু হয়ে এক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ

প্রকাশিত: ১২:২১ পিএম, এপ্রিল ১৩, ২০২০
  • শেয়ার করুন

সংসদ সচিবালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় ডাকা সংসদের আসন্ন অধিবেশনটি শুরু হয়ে এক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। সংসদের বৈঠক বসার পর শোক প্রস্তাব গ্রহণ করেই তার সমাপ্তি টানা হবে। আপাতত এমনই রয়েছে পরিকল্পনা। অবশ্য সংসদ মুলতবি রেখে দীর্ঘ বিরতি দিয়ে বাজেট অধিবেশন ছুঁয়ে ফেলা যায় কিনা বিকল্প হিসেবে সে ভাবনাও আছে আলোচনায়। তবে তা ঠিক হবে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে। দেশের ইতিহাসে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম অধিবেশন, যেখানে কিছু জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যকে সংসদে আসতে নিরুৎসাহিতও করা হবে। ঢুকতে পারবে না গণমাধ্যমকর্মীরাও।

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে ডাকা চলতি একাদশ সংসদের সপ্তম অধিবেশন আগামী ১৮ এপ্রিল বসতে যাচ্ছে। সংসদ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংসদের ইতিহাসে এটা হবে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ততম অধিবেশন। আগামী শনিবার বিকাল ৫টায় শুরু হয়ে মাগরিবের নামাজের বিরতির আগেই এ অধিবেশন শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী সংসদের এক অধিবেশনের শেষ ও পরের অধিবেশন শুরুর মধ্যে একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের বেশি বিরতি দেওয়ার সুযোগ নেই। সংবিধানের এই বাধ্যবাধকতা মানতে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও অধিবেশন বসতে যাচ্ছে বলে আগেই জানিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা ও একাধিক হুইপের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, বয়স্ক ও শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ নন এমন এমপিদের এই অধিবেশনে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করা হবে। এমপিদের কাছে এমন বার্তা পৌঁছাতে ইতোমধ্যে হুইপদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় অবস্থানরত এবং ঢাকার আশপাশের সংসদীয় এলাকার সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিকে উৎসাহিত করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের বৈঠকের কোরাম পূরণ করতে সর্বনিম্ন ৬০ জনের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। তাই ওই হিসেব মাথায় রেখে এমপিদের অধিবেশনে যোগ দিতে বলা হচ্ছে। এছাড়া সংসদ কক্ষে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দেওয়া হবে।

এদিকে সংসদের রেওয়াজ অনুযায়ী চলতি সংসদের কোনও এমপির মৃ’ত্যু হলে অধিবেশনের শুরুর দিনে শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর বৈঠক মুলতবি করা হয়। চলতি সংসদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু (পাবনা-২) গত ২ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাই বৈঠকের শুরুতেই শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও তার শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হবে। শোক প্রস্তাব গ্রহণের পরপরই বৈঠক শেষ করে দেওয়া হবে।

এদিকে একাদশ সংসদের সর্বশেষ ষষ্ঠ অধিবেশন শেষ হয়েছিল ১৮ ফেব্রুয়ারি। সেই হিসেবে ১৮ এপ্রিলের মধ্যে সংসদের অধিবেশন শুরুর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর আগে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ৩ মার্চ সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়। যা ২২ মার্চ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে অধিবেশন বাতিল করেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ।