আজ ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবসের ৪৭ বছর

প্রকাশিত: ১১:০০ এএম, নভেম্বর ৩, ২০২২
  • শেয়ার করুন

আজ ৩ নভেম্বর। ১৯৭৫ সালের এই দিনে জেলখানায় বন্দি অবস্থায় থাকা জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল। তাঁদের গুলি করে ও বেয়নেট বিদ্ধ করে হত্যা করেছিল একদল সেনা সদস্য। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার ৮০ দিনের মাথায় এ ঘটনা ঘটানো হয়।

সেদিন হত্যা করা হয় বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী ও দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামানকে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনকের ধানমণ্ডির বাড়িতে তাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খুনি মোশতাক জাতীয় চার নেতাকে তার সরকারে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানায়।

স্বাধীনতাযুদ্ধে একসঙ্গে নেতৃত্ব দেওয়া এসব নেতা এ প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। ব্যর্থ মোশতাক ২৩ আগস্ট তাদের গ্রেফতার করেন। এ ঘটনার পর বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা দেশ ছেড়ে নির্বাসিত হওয়ার পরিকল্পনা করে। তবে দেশত্যাগের আগে তারা জাতীয় এই চার নেতাকে হত্যা করে যান।

জেলহত্যার প্রায় ২৯ বছর পর এর বিচার কাজ শুরু হয়। ২০০৪ সালের ২০শে অক্টোবর তিনজন পলাতক সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড ও ১২ জন সেনা কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ মামলায় খালাস পান বিএনপির চারজন সিনিয়র নেতাসহ পাঁচজন।

২০০৮ সালের ২৮শে আগস্ট বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ জেলহত্যা মামলায় অভিযুক্ত ছয়জন সামরিক কর্মকর্তাকে খালাস দেয়। খালাস পাওয়াদের মধ্যে সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, বজলুল হুদা এবং এ কে এম মহিউদ্দীন আহমেদকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১০ সালে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

বাকী দুই খালাসপ্রাপ্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

প্রতি বছর জেল হত্যা দিসবটি পালন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন সংগঠন। দিবসটির ৪৭তম বছরে এসে বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।



সর্বশেষ খবর