সর্বশেষ সংবাদ

মাননীয় এমপি নাহিম রাজ্জাক 'র বিস্তারিত খবরাখবর

নাহিম রাজ্জাক

নাহিম রাজ্জাক

সামাজিক মাধ্যমে এমপি

নির্বাচনী এলাকা :শরীয়তপুর-৩

জন্ম সাল: ফেব্রুয়ারী ৭, ১৯৮১

শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতকোত্তর ডিগ্রী

লিঙ্গ : পুরুষ

পেশা: রাজনীতিবিদ

জীবন বৃত্তান্ত

নাহিম রাজ্জাক একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন সদস্য এবং দুইবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি তার নির্বাচনী এলাকা শরীয়তপুর- ৩ থেকে নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০১৫ সালে Junior Chamber International- Top 10 Outstanding Youth Person (TOYP) পুরষ্কার লাভ করেন। নাহিম রাজ্জাক গভঃ ল্যাবরেটরী স্কুল, ঢাকাতে তার শিক্ষাজীবন শুরু করেন। পরে তিনি ভারতের দার্জিলিং এ অবস্থিত St. Paul School থেকে 'ও- লেভেল' এবং আজমীরে অবস্থিত মেয়ো কলেজ থেকে 'এ-লেভেল' সম্পন্ন করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত মিডলসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসা ও বিপণন বিষয়ে (ডাবল মেজরসহ) স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। এরপর যুক্তরাজ্যের সারেতে অবস্থিত কিংস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিপণন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। রাজনৈতিক জীবন শিক্ষা জীবন শেষ করে নাহিম যুক্তরাজ্যে মার্কেটিং বিষয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০০৪ সালের ২১শে আগস্টে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর গ্রনেড হামলায় তাঁর বাবা আব্দুর রাজ্জাক (রাজনীতিবিদ) গুরুতর আহত হন। এরই প্রেক্ষিতে নাহিম যুক্তরাজ্যের কর্মজীবনে ইস্তফা দিয়ে দেশে ফিরে আসেন এবং রাজনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েন। ৩ বছরের রাজনৈতিক কার্যকলাপের প্রেক্ষিতে তিনি ২০০৮ সালের নবম জাতীয় নির্বাচনে প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। পরে তাঁর বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি রাজিনীতির পাশাপাশি শরীয়তপুরের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজের কাধে তুলে নেন। ২৩ ডিসেম্বর, ২০১১ সালে তাঁর বাবার মৃত্যুর পর তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান এবং নির্বাচনে জয়লাভ করে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য হন। ৫ জানুয়ারী, ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় নির্বাচনে তিনি দ্বিতীয়বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরই মাধ্যমে তিনি ৩৫ বছরের কম বয়সে দুই বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিরল গৌরব অর্জন করেন। নিজে তরুন আইনপ্রনেতা হওয়ার কারনে নাহিম বিশ্বাস করেন যে বাংলাদেশের উন্নতির জন্য তরুন প্রজন্মকে মুলধারার রাজনৈতিক আইনপ্রনেতাদের সাথে যুক্ত করা উচিত। এই বিশ্বাস থেকেই পরবর্তীকালে সারাদেশের তরুন প্রজন্মকে এক প্ল্যাটফর্মে আনতে এবং আইন প্রনয়নে তাদের মতামতকে তুলে ধরতে গঠিত হয় 'ইয়ং বাংলা'। তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি্র সদস্য হিসেবে ২০১৪ সাল থেকে তরুন প্রজন্মের উন্নতির সাথে যুক্ত আছেন। তিনি শরীয়তপুরের ১০ টিরও বেশি স্কুল ও কলেজের চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত আছেন এবং শিক্ষার প্রসারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তরুন প্রজন্মের উন্নয়নের অংশ হিসেবে তিনি ২০১৫ সালে 'ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ' (E-commerce Association of Bangladesh) গড়ে তুলতে সাহায্য করেন। বর্তমানে তিনি সংগঠনের অন্যতম পরামর্শদাতা হিসেবে 'ই-কমার্স'কে বাংলাদেশ ও বিশ্ব দরবারে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য কাজ করছেন। জলবায়ু পরিবর্তন এই শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ন বিষয়। নাহিম রাজ্জাক জলবায়ু পরিষদ, বাংলাদেশ এর আহবায়ক হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়েও কাজ করে যাচ্ছেন। এই পরিষদ দাতব্য সংস্থা হিসেবে জৈব জ্বালানী ব্যবহার কমাতে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহারে উদবুদ্ধ করতে সারা বিস্বের আইনপ্রনেতাদেরকে পরামর্শ দিয়ে থাকে। নাহিম রাজ্জাকের জন্ম রাজনৈতিক পরিবারে। তারঁ পিতা আব্দুর রাজ্জাক (রাজনীতিবিদ) ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। আব্দুর রাজ্জাক ষাটের দশকের ছাত্র আন্দোলন 'নিউক্লিয়াস' এর তিনজন গঠনকালীন সদস্যের একজন এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী নেতা। মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং যুদ্ধের সময় তিনি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর প্রধান হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭০ এর প্রাদেশিক নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন। তিনি স্বাধীন বাংলার পাঁচবারের সংসদ সদস্য, ১৯৯৬ - ২০০১ আওয়ামী লীগ সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের সাবেক মন্ত্রী ছিলেন। নাহিম রাজ্জাকের মা, ফরিদা রাজ্জাক ছিলেন একজন শিক্ষক এবং সমাজকর্মী। তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নাহিম রাজ্জাক এবং মালেয়া হোসাইন দম্পতির দু'জন পুত্রসন্তান রয়েছে।

এমপি প্রতিনিধি